গৃহঋণ কিস্তি ক্যালকুলেটর

লেখক: Henrick Yau

ক্যালকুলেটরসমূহ

বাড়ির দাম, ডাউন পেমেন্ট, সুদের হারঋণের মেয়াদ থেকে গৃহঋণের মাসিক কিস্তি ও মোট সুদ হিসাব করে।

বাংলাদেশ ব্যাংক-এর নীতি সুদহার (রেপো) ৯.৫০%, এসএলএফ ১১.০০%, এসডিএফ ৭.৫০% ও ব্যাংক রেট ৪.০০%। ২০২৪ সাল থেকে ব্যাংক ঋণের সুদহার বাজারনির্ধারিত; জুলাই ২০২৬-এর ঘোষিত তালিকায় গৃহঋণ সাধারণত ১১% থেকে ১৫% এর মধ্যে।

ঋণের তথ্য

হার ও সীমা (নিজে বদলাতে পারবেন)

গৃহঋণে মাসে কত কিস্তি দিতে হবে

গৃহঋণ-এর মাসিক কিস্তি তিনটি সংখ্যার উপর দাঁড়িয়ে আছে — ঋণের পরিমাণ, সুদের হার এবং ঋণের মেয়াদ। ঋণের পরিমাণ মানে ফ্ল্যাট বা বাড়ির দাম থেকে ডাউন পেমেন্ট বাদ দেওয়ার পর যা থাকে। কিস্তির সূত্রটি সব ব্যাংকে এক: আসল × মাসিক সুদ × (১ + মাসিক সুদ) ঘাত কিস্তিসংখ্যা, ভাগ (১ + মাসিক সুদ) ঘাত কিস্তিসংখ্যা বিয়োগ এক। মাসিক সুদ মানে বার্ষিক হারকে ১২ দিয়ে ভাগ করা।

সুদের হার এখন বাজারনির্ধারিত। বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণের সর্বোচ্চ হার বেঁধে দেয় না, তবে নীতি সুদহারের মাধ্যমে বাজারকে প্রভাবিত করে। বর্তমানে নীতি সুদহার বা রেপো হার ৯.৫০%, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি ১১.০০%, স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি ৭.৫০% এবং ব্যাংক রেট ৪.০০%। তফসিলি ব্যাংকের ঘোষিত সুদহারের তালিকায় গৃহঋণ সাধারণত ১১% থেকে ১৫% এর মধ্যে থাকে।

হিসাবটা যেভাবে এগোয়

  1. বাড়ি বা ফ্ল্যাটের দাম থেকে ডাউন পেমেন্ট বাদ দিয়ে ঋণের পরিমাণ বের করুন।
  2. বার্ষিক সুদের হারকে ১২ দিয়ে ভাগ করে মাসিক হার নিন
  3. মেয়াদকে ১২ দিয়ে গুণ করে মোট কিস্তির সংখ্যা নিন।
  4. উপরের সূত্রে মাসিক কিস্তি বের করুন।
  5. কিস্তি × কিস্তিসংখ্যা = মোট পরিশোধ; সেখান থেকে আসল বাদ দিলে মোট সুদ।
  6. প্রক্রিয়াকরণ ফি আলাদা — সেটি সাধারণত ঋণ ছাড়ের সময় একবারেই কেটে নেওয়া হয়, কিস্তির ভেতরে থাকে না।

যে জায়গায় সবচেয়ে বেশি ভুল হয়

মেয়াদ বাড়ানোকে সস্তা মনে করা। মেয়াদ বাড়ালে মাসিক কিস্তি কমে, এটা সত্যি — কিন্তু মোট সুদ লাফিয়ে বাড়ে। দীর্ঘ মেয়াদের গৃহঋণে সচরাচর মোট সুদ আসলের চেয়েও বড় হয়ে যায়। কিস্তি সাধ্যের মধ্যে রাখা আর মোট খরচ কমানো — এই দুটি লক্ষ্য একে অপরের বিপরীতে টানে, এবং সিদ্ধান্তটা সচেতনভাবে নেওয়া দরকার।

দ্বিতীয় ভুলটি সুদের হারকে স্থির ধরে নেওয়া। বাংলাদেশে বেশিরভাগ গৃহঋণ পরিবর্তনশীল হারে দেওয়া হয় — চুক্তিতে হার পুনর্নির্ধারণের শর্ত থাকে। হার এক শতাংশ বিন্দু বাড়লে দীর্ঘ মেয়াদের কিস্তিতে যে পরিবর্তন আসে, সেটি ঋণ নেওয়ার আগেই এই ক্যালকুলেটরে হার বদলে দেখে নেওয়া ভালো।

আপনার অঙ্ক আলাদা হতে পারে যে কারণে

  • ব্যাংকভেদে হার আলাদা। বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত তালিকায় একই সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকের গৃহঋণে বেশ প্রশস্ত পার্থক্য থাকে; নিজের ব্যাংকের প্রকৃত প্রস্তাবিত হারটিই বসান।
  • ঋণ-মূল্য অনুপাত। ব্যাংক সাধারণত সম্পত্তির পুরো দাম ঋণ দেয় না, ফলে ডাউন পেমেন্ট আপনার হিসাবের চেয়ে বড় হতে পারে।
  • আয়ের অনুপাতে কিস্তির সীমা। মাসিক আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশের বেশি কিস্তি হলে ব্যাংক ঋণের অঙ্ক কমিয়ে দেয়।
  • অন্যান্য খরচ। বিমা, মূল্যায়ন ফি, আইনি যাচাই ও রেজিস্ট্রেশন খরচ কিস্তির বাইরে, কিন্তু বাড়ি কেনার মোট খরচে যোগ হয়।
  • আগাম পরিশোধ। মেয়াদের মাঝপথে বড় অঙ্ক পরিশোধ করলে মোট সুদ অনেক কমে; কিছু ব্যাংক এর জন্য মাশুল নেয়।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

কিস্তির সূত্রটি কি সব ব্যাংকে এক? সমান কিস্তির ঋণে সূত্রটি এক। পার্থক্য হয় সুদের হার, ফি এবং হার পুনর্নির্ধারণের শর্তে।

সুদের হার কি বাংলাদেশ ব্যাংক ঠিক করে দেয়? না। ঋণের সুদহার এখন বাজারনির্ধারিত। বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার ও অন্যান্য নীতি হার ঘোষণা করে এবং তফসিলি ব্যাংকের ঘোষিত সুদহারের তালিকা প্রকাশ করে, কিন্তু গৃহঋণে সর্বোচ্চ হার বেঁধে দেয় না।

ডাউন পেমেন্ট বেশি দিলে কতটা লাভ? ডাউন পেমেন্ট বাড়লে আসল কমে, ফলে কিস্তি ও মোট সুদ দুটোই আনুপাতিক হারে কমে। এই ক্যালকুলেটরে ডাউন পেমেন্টের ঘরটি বদলে পার্থক্যটা তুলনা করে দেখুন।

প্রক্রিয়াকরণ ফি কি কিস্তির সঙ্গে যায়? সাধারণত না — এটি ঋণ ছাড়ের সময় একবারে কাটা হয়। এখানে সেটি আলাদা করে দেখানো হয়েছে যাতে মোট খরচের ছবিটা সম্পূর্ণ হয়।