গ্র্যাচুইটি ক্যালকুলেটর

লেখক: Henrick Yau

ক্যালকুলেটরসমূহ

শ্রম আইন অনুযায়ী চাকরির মেয়াদসর্বশেষ মূল বেতন থেকে গ্র্যাচুইটি হিসাব করে।

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ধারা ২(১০): প্রতি পূর্ণ বৎসর চাকরির জন্য সর্বশেষ প্রাপ্ত মজুরি হারে ন্যূনতম ৩০ দিনের মজুরি, আর ১০ বৎসরের অধিককাল চাকরির ক্ষেত্রে ৪৫ দিনের মজুরি। ছয় মাসের অতিরিক্ত সময় পূর্ণ বছর হিসেবে গণ্য হয়। এটি অবসর সুবিধার একটি অংশ মাত্র।

চাকরির তথ্য

আইনি হার (নিজে বদলাতে পারবেন)

চাকরি ছাড়ার সময় গ্র্যাচুইটি কত পাবেন

গ্র্যাচুইটি হলো চাকরির অবসানে প্রদেয় এককালীন অঙ্ক, যার পরিমাণ নির্ভর করে দুটি জিনিসের উপর — চাকরির মেয়াদ এবং সর্বশেষ মূল বেতন। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ধারা ২(১০) এটির সংজ্ঞা দিয়েছে: প্রতি পূর্ণ বৎসর চাকুরী অথবা ছয় মাসের অতিরিক্ত সময়ের চাকুরীর জন্য সর্বশেষ প্রাপ্ত মজুরী হারে ন্যূনতম ৩০ দিনের মজুরী; আর ১০ বৎসরের অধিককাল চাকুরীর ক্ষেত্রে সর্বশেষ প্রাপ্ত মজুরী হারে ৪৫ দিনের মজুরী।

লক্ষ্য করার মতো শব্দ দুটি — “ন্যূনতম” এবং “অধিককাল”। আইনটি একটি মেঝে নির্ধারণ করে, ছাদ নয়; প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাকরি বিধি বা চুক্তি এর চেয়ে বেশি দিতে পারে, কম নয়। আর ধাপ বদলায় ১০ বছরে নয়, ১০ বছর পার হলে।

হিসাবটা যেভাবে এগোয়

  1. সর্বশেষ মাসিক মূল মজুরি নিন। ভাতা নয়, মূল মজুরি।
  2. দৈনিক মজুরি বের করুন — মাসিক মূল মজুরিকে মাসের দিন সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে। শ্রম আইন ভাজকটি নির্দিষ্ট করে দেয়নি; প্রতিষ্ঠানভেদে ৩০ বা ২৬ ব্যবহৃত হয়, তাই এই ক্যালকুলেটরে ভাজকটি বদলানো যায়।
  3. গণনাযোগ্য বছর ঠিক করুন। পূর্ণ বছরগুলো তো গোনা হবেই; শেষ বছরের অতিরিক্ত সময় ছয় মাসের বেশি হলে সেটিও একটি পূর্ণ বছর হিসেবে গোনা হবে।
  4. গণনাযোগ্য বছর ১০ এর বেশি হলে বছরপ্রতি ৪৫ দিন, নয়তো ৩০ দিন।
  5. দৈনিক মজুরি × বছরপ্রতি দিন × গণনাযোগ্য বছর — এটিই গ্র্যাচুইটি।

যে জায়গায় সবচেয়ে বেশি ভুল হয়

দুটি জায়গা নিয়ে সবচেয়ে বেশি তর্ক হয়।

প্রথমটি ছয় মাসের শর্ত। আইনে লেখা “ছয় মাসের অতিরিক্ত সময়”। অর্থাৎ ঠিক ছয় মাস যথেষ্ট নয় — সাত মাস হলে তবেই বাড়তি বছরটি গোনা হবে। ৯ বছর ৬ মাসের চাকরি ৯ বছর, ৯ বছর ৭ মাসের চাকরি ১০ বছর।

দ্বিতীয়টি ৪৫ দিনের ধাপ। ঠিক ১০ বছর চাকরি করলে ৪৫ দিন নয়, ৩০ দিনই প্রযোজ্য, কারণ আইন বলছে “১০ বৎসরের অধিককাল”। আর ধাপটি পার হলে ৪৫ দিন কেবল ১১তম বছর থেকে নয়, পুরো চাকরিজীবনের প্রতিটি বছরের জন্য প্রযোজ্য — তাই ১০ বছর ৩ মাস আর ১০ বছর ৭ মাসের মধ্যে গ্র্যাচুইটির লাফটা বেশ বড়।

আপনার অঙ্ক আলাদা হতে পারে যে কারণে

  • অবসানের ধরন। ছাঁটাই, ডিসচার্জ, বরখাস্ত ও মালিক কর্তৃক চাকরির অবসান — এদের জন্য শ্রম আইনে আলাদা ক্ষতিপূরণের বিধান আছে। ধারা ২৬ ও ধারা ২৭ অনুযায়ী প্রত্যেক সম্পূর্ণ বৎসরের চাকুরীর জন্য ৩০ দিনের মজুরী অথবা গ্র্যাচুইটি — যাহা অধিক — প্রদেয়। এই ক্যালকুলেটর দুটোই পাশাপাশি দেখায়।
  • প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিধি। ব্যাংক ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে প্রায়ই আইনের চেয়ে উদার হার থাকে।
  • অবসর গ্রহণ। ধারা ২৮ অনুযায়ী ৬০ বছর বয়সে স্বাভাবিক অবসর সুবিধা আসে, এবং ধারা ২৯ অনুযায়ী ভবিষ্য তহবিলের প্রাপ্যও তখন পরিশোধযোগ্য। গ্র্যাচুইটি ও ভবিষ্য তহবিল আলাদা দুটি সুবিধা, একটি আরেকটির বিকল্প নয়।
  • সর্বশেষ মজুরির সংজ্ঞা। চাকরি ছাড়ার ঠিক আগে পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধি হলে সেটিই ভিত্তি।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

গ্র্যাচুইটি কি মূল বেতনের উপর নাকি মোট বেতনের উপর? শ্রম আইন “সর্বশেষ প্রাপ্ত মজুরী হারে” বলেছে, এবং প্রচলিত প্রয়োগে সেটি মূল মজুরি। প্রতিষ্ঠানের চাকরি বিধিতে ভিন্ন সংজ্ঞা থাকলে সেটিই দেখুন।

কত বছর চাকরি করলে গ্র্যাচুইটি পাওয়া যায়? ধারা ২(১০) প্রতি পূর্ণ বছরের জন্য গ্র্যাচুইটির কথা বলে, আর ধারা ২৬ ও ২৭ এর ক্ষতিপূরণ পেতে অন্যূন এক বছরের অবিচ্ছিন্ন চাকরি লাগে। এক বছর পূর্ণ না হলে সাধারণত কিছুই প্রাপ্য হয় না।

নিজে থেকে চাকরি ছেড়ে দিলে কি গ্র্যাচুইটি পাব? এটি প্রতিষ্ঠানের চাকরি বিধির উপর নির্ভর করে। শ্রম আইন গ্র্যাচুইটিকে চাকরির অবসানে প্রদেয় বলেছে, তবে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ক্ষেত্রে প্রাপ্যতা প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা।

গ্র্যাচুইটি ও ক্ষতিপূরণ — দুটোই কি একসঙ্গে পাওয়া যায়? না। ধারা ২৬ ও ২৭ বলছে ৩০ দিনের মজুরী অথবা গ্র্যাচুইটি, যাহা অধিক। অর্থাৎ দুটির মধ্যে বড়টি প্রদেয়, দুটির যোগফল নয়।