প্রভিডেন্ট ফান্ড ক্যালকুলেটর

লেখক: Henrick Yau

ক্যালকুলেটরসমূহ

মাসিক মূল মজুরির উপর চাঁদা, নিয়োগকর্তার অংশ এবং সুদের হার ধরে প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা হওয়া মোট অর্থ হিসাব করে।

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ধারা ২৬৪(৯): স্থায়ী শ্রমিক চাকরির এক বছর পূর্ণ করার পর মাসিক মূল মজুরির অন্যূন ৭% ও অনধিক ৮% হারে চাঁদা দেবেন, এবং মালিকও একই হারে চাঁদা দেবেন। অবসর ষাট বছরে।

আপনার তথ্য

হার ও সীমা (নিজে বদলাতে পারবেন)

অবসরে ভবিষ্য তহবিলে কত জমবে

প্রভিডেন্ট ফান্ড বা ভবিষ্য তহবিল বেসরকারি চাকরিজীবীর সবচেয়ে নিরিবিলি সঞ্চয়। প্রতি মাসে বেতন থেকে সামান্য একটি অংশ কাটা যায়, প্রতিষ্ঠান তার সঙ্গে সমান অংশ যোগ করে, আর পুরোটা বছরের পর বছর মুনাফাসহ জমতে থাকে। বিশ-পঁচিশ বছর পরে অঙ্কটি যত বড় দাঁড়ায়, মাসিক কাটার পরিমাণ দেখে তা আন্দাজ করা কঠিন।

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ধারা ২৬৪(৯) হারটি বেঁধে দিয়েছে: যে প্রতিষ্ঠানে ভবিষ্য তহবিল গঠন করা হয়েছে, সেখানকার প্রত্যেক স্থায়ী শ্রমিক চাকুরী এক বৎসর পূর্ণ করিবার পর প্রত্যেক মাসে তাহার মাসিক মূল মজুরীর অন্যূন ৭% এবং অনধিক ৮% হারে চাঁদা প্রদান করিবেন; এবং মালিকও ইহাতে উক্ত হারে চাঁদা প্রদান করিবেন। অর্থাৎ নিয়োগকর্তার অংশ আপনার অংশের সমান — আপনার তহবিলে প্রতি মাসে চাঁদার দ্বিগুণ ঢোকে।

হিসাবটা যেভাবে এগোয়

  1. মাসিক মূল মজুরি নিন। মোট বেতন নয় — চাঁদা বসে মূল মজুরির উপর।
  2. চাঁদার হার বেছে নিন, ৭% বা ৮%। প্রতিষ্ঠানের তহবিল বিধিতে যেটি লেখা আছে সেটিই।
  3. মাসিক চাঁদাকে দ্বিগুণ করুন — আপনার অংশ ও মালিকের অংশ মিলিয়ে প্রতি মাসে তহবিলে যা যায়।
  4. প্রতি মাসের জমার উপর মুনাফা যোগ করুন, এবং প্রতি বছর মূল মজুরি বাড়ার সঙ্গে চাঁদাও বাড়িয়ে নিন।
  5. মেয়াদ শেষে মোট তহবিল থেকে দুই পক্ষের মোট চাঁদা বাদ দিলে যা থাকে, সেটাই অর্জিত মুনাফা।

যে জায়গায় সবচেয়ে বেশি ভুল হয়

সুদের হার নিয়ে ধারণাটাই সবচেয়ে গোলমেলে। শ্রম আইন ভবিষ্য তহবিলের মুনাফার কোনো হার নির্ধারণ করে না। হারটি ঠিক করে তহবিলের ট্রাস্টি বোর্ড, এবং তা নির্ভর করে তহবিলের টাকা কোথায় বিনিয়োগ হয়েছে তার উপর। ধারা ২৬৪(১২) বলছে জমাকৃত মোট অর্থের অন্যূন অর্ধেক সরকারি মালিকানাধীন বিনিয়োগযোগ্য কোনো খাতে বিনিয়োগ করা যাবে; বাস্তবে বড় অংশ যায় ৩-মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে, যেখানে স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিল তহবিলের মোট স্থিতির ৫০% পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারে। সেই স্কিমে পূর্ণ মেয়াদান্তে মুনাফার হার এখন ১১.৮২%, আর এই ক্যালকুলেটরের ডিফল্ট সেটিই — কিন্তু এটি কোনো তহবিলের ঘোষিত হার নয়, কেবল একটি যুক্তিসঙ্গত সূচনাবিন্দু। আপনার তহবিলের হিসাব বিবরণী থেকে প্রকৃত হারটি বসিয়ে নিন।

দ্বিতীয় ভুল — ধরে নেওয়া যে সব প্রতিষ্ঠানেই ভবিষ্য তহবিল আছে। ধারা ২৬৪(১০) অনুযায়ী যেসব প্রতিষ্ঠানে অন্যূন ১০০ জন স্থায়ী শ্রমিক কর্মরত, সেখানে দুই-তৃতীয়াংশ শ্রমিক লিখিত দরখাস্ত দিয়ে দাবি করলে মালিক তহবিল গঠন করতে বাধ্য। তার নিচে হলে তহবিল গঠন ঐচ্ছিক।

আপনার অঙ্ক আলাদা হতে পারে যে কারণে

  • বেতন বৃদ্ধির গতি। মূল মজুরি যত দ্রুত বাড়ে, চাঁদাও তত বাড়ে; এই একটি ইনপুট বদলালে শেষ অঙ্ক নাটকীয়ভাবে বদলায়।
  • মুনাফার প্রকৃত হার ও তা কত ঘন ঘন যোগ হয় — মাসিক, ষাণ্মাসিক না বার্ষিক।
  • প্রতিষ্ঠান বদল। চাকরি বদলালে তহবিল স্থানান্তর বা উত্তোলন হয়, আর নতুন প্রতিষ্ঠানে সদস্য হতে আবার এক বছর লাগতে পারে।
  • সর্বজনীন পেনশন স্কিম। ধারা ২৬৪(১০) অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান ‘প্রগতি’ স্কিমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করলে ভবিষ্য তহবিল গঠনের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পায়; সেখানে মালিক ৫০% ও শ্রমিক ৫০% চাঁদা দেন।
  • কর। স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিলে আপনার ও মালিকের চাঁদা বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতের তালিকাভুক্ত।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

চাঁদা কি মোট বেতনের উপর বসে? না। ধারা ২৬৪(৯) স্পষ্ট করে বলেছে মাসিক মূল মজুরির উপর। বাড়ি ভাড়া বা অন্যান্য ভাতা এর মধ্যে পড়ে না।

মালিক কি সবসময় সমান চাঁদা দেন? শ্রম আইন অনুযায়ী মালিককে একই হারে চাঁদা দিতে হবে। কিছু প্রতিষ্ঠান এর চেয়ে বেশি দেয়; সেক্ষেত্রে এই ক্যালকুলেটরে নিয়োগকর্তার গুণকটি বদলে নিন।

চাকরির এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগে কি চাঁদা কাটা হবে? ধারা ২৬৪(৯) সদস্যপদের শর্ত হিসেবে এক বছর পূর্ণ হওয়ার কথা বলেছে। তার আগে সাধারণত চাঁদা কাটা হয় না।

অবসরের আগে টাকা তোলা যায়? তহবিলের নিজস্ব বিধিতে অগ্রিম ও ঋণের সুযোগ থাকতে পারে। ধারা ২৯ অনুযায়ী ছাঁটাই, ডিসচার্জ, বরখাস্ত বা অবসর গ্রহণে মালিকের চাঁদাসহ প্রাপ্য পরিশোধযোগ্য হয়; স্বাভাবিক অবসর ৬০ বছরে।