নেট বেতন ক্যালকুলেটর
লেখক: Henrick Yauক্যালকুলেটরসমূহ
মাসিক মোট বেতন থেকে ভবিষ্য তহবিলের চাঁদা ও উৎসে কর কর্তন বাদ দিয়ে হাতে পাওয়া নিট বেতন হিসাব করে। বেতন কাঠামোয় মূল বেতন ও বাড়ি ভাড়া ভাতা আলাদা করে বসান — চাঁদা ও গ্র্যাচুইটি দুটোই মূল বেতনের উপর বসে।
করহার করবর্ষ ২০২৬-২৭ এর, এনবিআর-এর আয়কর পরিপত্র অনুযায়ী। চাকরি হইতে আয়ের এক-তৃতীয়াংশ অথবা ৫,০০,০০০ টাকা, যা কম, করমুক্ত — আয়কর আইন, ২০২৩ এর ষষ্ঠ তফসিল, অংশ ১, দফা (২৭)।
বেতন কাঠামো
হার ও সীমা (নিজে বদলাতে পারবেন)
মাসে হাতে কত টাকা আসবে
চাকরির অফার লেটারে যে অঙ্কটি লেখা থাকে সেটি মোট বেতন, আর মাসের শেষে ব্যাংকে যা ঢোকে সেটি নিট বেতন। দুইয়ের মাঝখানে সাধারণত দুটি কর্তন — ভবিষ্য তহবিল-এ আপনার চাঁদা, আর বেতন থেকে উৎসে কর কর্তন। এই ক্যালকুলেটর দুটোই বাদ দিয়ে হাতে আসা অঙ্কটি বের করে।
হিসাবটি করবর্ষ ২০২৬-২৭ এর হারে। দুটি জিনিস আলাদা করে বসাতে হয়: মাসিক মোট বেতন, এবং তার মধ্যে মূল বেতন কত। কারণ ভবিষ্য তহবিলের চাঁদা মোট বেতনের উপর নয়, মূল বেতনের উপর বসে। বাড়ি ভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা ও যাতায়াত ভাতা মোট বেতনের অংশ, কিন্তু চাঁদার ভিত্তি নয়।
হিসাবটা যেভাবে এগোয়
- মাসিক মোট বেতনকে ১২ দিয়ে গুণ করে বার্ষিক বেতন আয় বের করুন।
- তার থেকে চাকরি হইতে আয়ের অব্যাহতি বাদ দিন — বেতন আয়ের এক-তৃতীয়াংশ অথবা ৫,০০,০০০ টাকা, এ দুটির মধ্যে যেটি কম। এটি আয়কর আইন, ২০২৩ এর ষষ্ঠ তফসিলের বিধান, এবং এটি ভাতা ধরে ধরে হিসাব করার পুরোনো পদ্ধতির জায়গা নিয়েছে।
- যা থাকে সেটিই করযোগ্য বেতন আয়। তার থেকে আপনার শ্রেণির করমুক্ত সীমা বাদ দিন — সাধারণ করদাতার ৩,৭৫,০০০ টাকা, মহিলা ও ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের করদাতার ৪,২৫,০০০ টাকা।
- অবশিষ্ট অংশে স্তর বসান: পরবর্তী ৩,০০,০০০ টাকায় ১০%, তার পরের ৪,০০,০০০ টাকায় ১৫%, তার পরের ৫,০০,০০০ টাকায় ২০%, তার পরের ২০,০০,০০০ টাকায় ২৫%, বাকিটায় ৩০%।
- ভবিষ্য তহবিলে আপনার ও নিয়োগকর্তার চাঁদা দুই-ই রেয়াতযোগ্য বিনিয়োগ। রেয়াত হবে করযোগ্য আয়ের ৩%, বিনিয়োগের ১৫% বা ১০,০০,০০০ টাকা — এ তিনটির মধ্যে যেটি কম।
- রেয়াতের পর প্রদেয় আয়কর ন্যূনতম করের চেয়ে কম হলে ন্যূনতম কর ৫,০০০ টাকাই দিতে হবে। বার্ষিক করকে ১২ দিয়ে ভাগ করলে মাসে কত কাটা যাবে তা পাওয়া যায়।
যে জায়গায় সবচেয়ে বেশি ভুল হয়
মূল বেতনের অনুপাত নিয়ে। অনেক প্রতিষ্ঠানে মূল বেতন মোট বেতনের অর্ধেকের কাছাকাছি, কোথাও তার চেয়ে অনেক কম। মূল বেতন কমালে ভবিষ্য তহবিলের চাঁদা কমে, তাই হাতে পাওয়া টাকা তাৎক্ষণিকভাবে বাড়ে — কিন্তু গ্র্যাচুইটি ও তহবিলে জমা দুই-ই কমে যায়, আর রেয়াতযোগ্য বিনিয়োগও কমে। বেতন কাঠামো নিয়ে দরকষাকষির সময় শুধু মোট অঙ্ক নয়, মূল বেতনের অনুপাতটাও দেখা দরকার।
দ্বিতীয় ভুলটি হলো ধরে নেওয়া যে বেতন থেকে যা কাটা হয়েছে সেটিই চূড়ান্ত কর। উৎসে কর্তন একটি অগ্রিম পরিশোধ মাত্র; বছর শেষে রিটার্নে পুরো হিসাব মিলিয়ে বেশি কাটা পড়লে ফেরত পাওয়া যায়, কম হলে বাকিটা দিতে হয়।
আপনার অঙ্ক আলাদা হতে পারে যে কারণে
- উৎসব ভাতা ও বোনাস এই ক্যালকুলেটরে ধরা হয়নি। দুটি উৎসব ভাতা যোগ হলে বার্ষিক বেতন আয় বাড়ে, ফলে করও বাড়ে।
- গাড়ি ও বিনা ভাড়ায় বাসস্থান সুবিধা পেলে পরিমাপযোগ্য অঙ্ক আপনার বেতন আয়ে যোগ হয়।
- অন্য খাতের আয় — গৃহ সম্পত্তির ভাড়া, ব্যাংক সুদ, শেয়ারের লভ্যাংশ — মোট আয়ে যোগ হয়ে আপনাকে উঁচু স্তরে তুলে দিতে পারে।
- অন্যান্য রেয়াতযোগ্য বিনিয়োগ, যেমন জীবন বিমার প্রিমিয়াম বা ডিপোজিট পেনশন স্কিম, রেয়াত বাড়িয়ে দেয়।
- প্রতিষ্ঠানভেদে চাঁদার হার ৭% থেকে ৮% এর মধ্যে আলাদা হতে পারে, এবং সব প্রতিষ্ঠানে ভবিষ্য তহবিল নেই।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
বেতন থেকে কত টাকা কাটা হবে তা কে ঠিক করে? নিয়োগকর্তা বছরের শুরুতে আপনার সম্ভাব্য বার্ষিক বেতন আয় ধরে করদায় হিসাব করেন এবং তাকে ১২ ভাগে ভাগ করে প্রতি মাসে কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দেন।
ভবিষ্য তহবিলের চাঁদা কি করমুক্ত? স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিলে আপনার ও নিয়োগকর্তার চাঁদা রেয়াতযোগ্য বিনিয়োগের তালিকাভুক্ত। অর্থাৎ চাঁদা আয় থেকে বাদ যায় না, কিন্তু করদায় থেকে রেয়াত হিসেবে ছাড় দেয়।
মূল বেতন না জানলে কী করব? বেতন বিবরণী বা পে-স্লিপে মূল বেতন আলাদা করে লেখা থাকে। না পেলে মানবসম্পদ বিভাগ থেকে বেতন কাঠামোটি চেয়ে নিন — এই হিসাবের জন্য অঙ্কটি জরুরি।
হার কোথায় মিলিয়ে দেখব? করমুক্ত সীমা, স্তর ও ন্যূনতম কর এনবিআর-এর আয়কর পরিপত্রে প্রকাশিত হয়। রিটার্ন দাখিলের আগে সর্বশেষ পরিপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে নিন; এই ক্যালকুলেটরের প্রতিটি হার আপনি নিজেই বদলাতে পারবেন।