আয়কর ক্যালকুলেটর
লেখক: Henrick Yauক্যালকুলেটরসমূহ
করবর্ষ ২০২৬-২৭ এর করমুক্ত আয়সীমা ও স্তরভিত্তিক হারে স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার আয়কর, বিনিয়োগ রেয়াত এবং ন্যূনতম কর হিসাব করে।
হার ও সীমা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর পরিপত্র ২০২৫-২০২৬ এর অনুচ্ছেদ ১.১ অনুযায়ী, যা অর্থ অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর তফসিল-২ ও তফসিল-৩ উদ্ধৃত করে। নিট পরিসম্পদের উপর সারচার্জ এখানে ধরা হয়নি।
আপনার তথ্য
হার ও সীমা (নিজে বদলাতে পারবেন)
করবর্ষ ২০২৬-২৭ এ আপনার আয়কর কত
স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার আয়কর দুই ধাপে বসে। প্রথমে একটি করমুক্ত সীমা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর কোনো কর নেই; তার উপরের অংশটুকু ধাপে ধাপে বাড়তে থাকা হারে কর স্তর ভেঙে বসানো হয়। সাধারণ করদাতার করমুক্ত সীমা ৩,৭৫,০০০ টাকা। মহিলা এবং ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের করদাতার জন্য এটি ৪,২৫,০০০ টাকা, তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য ৫,০০,০০০ টাকা, আর গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধার জন্য ৫,২৫,০০০ টাকা।
কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতামাতা বা আইনানুগ অভিভাবক হলে প্রত্যেক প্রতিবন্ধী সন্তান বা পোষ্যের জন্য সীমা আরও ৫০,০০০ টাকা বাড়ে; পিতা ও মাতা দুজনেই করদাতা হলে যেকোনো একজন এই সুবিধা পাবেন। এই হার ও সীমা এনবিআর-এর আয়কর পরিপত্রে প্রকাশিত, যা ২০২৫ সালের অর্থ অধ্যাদেশের তফসিল-২ ও তফসিল-৩ উদ্ধৃত করে।
হিসাবটা যেভাবে এগোয়
- মোট আয় বের করুন — বেতন, গৃহ সম্পত্তি, ব্যবসা, কৃষি ও অন্যান্য উৎসের করযোগ্য আয় যোগ করে।
- মোট আয় থেকে আপনার শ্রেণির করমুক্ত সীমা বাদ দিন। যা থাকে, তার উপরেই স্তর বসবে।
- পরবর্তী ৩,০০,০০০ টাকার উপর ১০%, তার পরের ৪,০০,০০০ টাকার উপর ১৫%, তার পরের ৫,০০,০০০ টাকার উপর ২০%, তার পরের ২০,০০,০০০ টাকার উপর ২৫% এবং অবশিষ্ট মোট আয়ের উপর ৩০% হারে কর।
- প্রতিটি স্তরের কর যোগ করলে রেয়াতের আগের করদায় পাওয়া যায়।
- এখান থেকে বিনিয়োগ রেয়াত বাদ দিন। রেয়াত হবে তিনটির মধ্যে যেটি কম — রেয়াতযোগ্য মোট আয়ের ৩%, মোট রেয়াতযোগ্য বিনিয়োগের ১৫%, অথবা ১০,০০,০০০ টাকা।
- রেয়াতের পর যা দাঁড়ায় তার সঙ্গে ন্যূনতম কর মিলিয়ে দেখুন — যেটি বেশি, সেটিই প্রদেয়।
যে জায়গায় সবচেয়ে বেশি ভুল হয়
মানুষ ধরে নেয়, রেয়াত পেয়ে করদায় শূন্যে নেমে গেলে আর কিছু দিতে হবে না। তা নয়। মোট আয় করমুক্ত সীমা অতিক্রম করলেই ন্যূনতম কর ৫,০০০ টাকা দিতে হবে — রেয়াতের পর প্রদেয় কর তার চেয়ে কম, শূন্য বা ঋণাত্মক হলেও। যিনি এই প্রথম রিটার্ন দাখিল করছেন, তাঁর জন্য ন্যূনতম কর ১,০০০ টাকা।
উল্টো ভুলটিও দেখা যায়: মোট আয় করমুক্ত সীমার নিচে থাকলে অনেকে ন্যূনতম কর দিয়ে বসেন। সীমার নিচে থাকলে ন্যূনতম কর প্রযোজ্য নয়।
দ্বিতীয় জায়গাটি রেয়াতের হিসাব। রেয়াত করদায় থেকে বাদ যায়, আয় থেকে নয়। এবং রেয়াত পেতে হলে করদায় থাকতে হবে — করদায় না থাকলে রেয়াতও নেই।
আপনার অঙ্ক আলাদা হতে পারে যে কারণে
এই ক্যালকুলেটর কেবল নিয়মিত উৎসের করযোগ্য আয়ের উপর কর বসায়। আপনার নিজের রিটার্নে অঙ্ক অন্যরকম হতে পারে, কারণ —
- সারচার্জ: নিট পরিসম্পদ ৪ কোটি টাকার বেশি হলে করযোগ্য আয়ের উপর হিসাব করা করের উপর ১০% থেকে ৩৫% পর্যন্ত সারচার্জ বসে। নিজ নামে একাধিক মোটর গাড়ি বা মোট ৮,০০০ বর্গফুটের বেশি গৃহ-সম্পত্তি থাকলেও সারচার্জ আসে।
- চূড়ান্ত করদায়ভুক্ত আয়: সঞ্চয়পত্রের মুনাফার মতো কিছু আয়ে উৎসে কাটা করই চূড়ান্ত। সেগুলো আলাদা হিসাবে যায়।
- অংশীদারী ফার্মের শেয়ার আয় ও কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত আয় রেয়াতযোগ্য মোট আয় থেকে বাদ যায়।
- অগ্রিম কর ও উৎসে কর: বছরজুড়ে যা কেটে রাখা হয়েছে, তা প্রদেয় কর থেকে বাদ যাবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
করমুক্ত সীমার নিচে আয় হলেও কি রিটার্ন দিতে হবে? রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা আর কর দেওয়ার দায় এক জিনিস নয়। আয় সীমার নিচে থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক। কর দিতে হবে না, কিন্তু রিটার্ন দিতে হতে পারে।
বিনিয়োগ রেয়াত পেতে কোথায় বিনিয়োগ করব? জীবন বিমার প্রিমিয়াম, স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিলে চাঁদা, ডিপোজিট পেনশন স্কিম, সরকারি সিকিউরিটিজ, তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড, এবং অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে দান — সবই তালিকায় আছে। সম্পূর্ণ তালিকা এনবিআর-এর আয়কর নির্দেশিকায় দেওয়া।
নির্দিষ্ট সময়ে রিটার্ন না দিলে কী হয়? নির্ধারিত তারিখের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে ব্যর্থ হলে ওই করবর্ষে বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতের প্রাপ্যতা থাকে না। অর্থাৎ বিনিয়োগ থাকলেও রেয়াত শূন্য।
হার কি প্রতি বছর বদলায়? হার ও করমুক্ত সীমা অর্থ আইন বা অর্থ অধ্যাদেশের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। রিটার্ন দাখিলের আগে নিজের অঙ্ক এনবিআর-এর সর্বশেষ আয়কর পরিপত্র থেকে মিলিয়ে নিন — এই ক্যালকুলেটরের প্রতিটি সীমা ও হার আপনি নিজেই বদলাতে পারবেন।