জাকাত ক্যালকুলেটর

লেখক: Henrick Yau

ক্যালকুলেটরসমূহ

নিসাব পরিমাণ সম্পদের উপর জাকাত হিসাব করে — নগদ, ব্যাংক জমা, স্বর্ণ, রূপা, ব্যবসায়িক পণ্য ও বিনিয়োগ যোগ করে, ঋণ বাদ দিয়ে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের যাকাত বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী স্বর্ণের নিসাব ২০ মিসকাল অর্থাৎ সাড়ে সাত ভরি (৮৭.৪৮ গ্রাম) এবং রূপার নিসাব ২০০ দিরহাম অর্থাৎ সাড়ে বায়ান্ন ভরি; জাকাতের হার শতকরা আড়াই ভাগ। একাধিক প্রকার সম্পদ মিশে থাকলে রূপার নিসাবই চূড়ান্ত। স্বর্ণ ও রূপার দর প্রতিদিন বদলায়, তাই দর দুটি আপনাকেই বসাতে হবে।

আপনার সম্পদ

নিসাব ও দর (নিজে বসান)

আপনার উপর জাকাত ফরজ কি না, আর কত

জাকাত ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি, এবং তা সবার উপর ফরজ নয় — কেবল তাঁর উপর, যাঁর হাতে নিসাব পরিমাণ সম্পদ পূর্ণ এক চন্দ্রবছর স্থায়ীভাবে থাকে। তাই হিসাবটি দুই ধাপের: আগে দেখতে হয় আপনার নিট সম্পদ নিসাব ছুঁয়েছে কি না, তারপরই কেবল হার প্রয়োগ করা যায়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের যাকাত বোর্ড প্রকাশিত ‘যাকাত তহবিল পরিচিতি ও নীতিমালা’ অনুযায়ী স্বর্ণ-এর নিসাব বিশ মিসকাল, অর্থাৎ সাড়ে সাত ভরি বা ৮৭.৪৮ গ্রাম। রূপা-র নিসাব দুইশত দিরহাম, অর্থাৎ সাড়ে বায়ান্ন ভরি। জাকাতের হার শতকরা আড়াই ভাগ, অর্থাৎ ২.৫০% — সম্পদের চল্লিশ ভাগের এক ভাগ।

হিসাবটা যেভাবে এগোয়

  1. জাকাতযোগ্য সম্পদ যোগ করুন — হাতে থাকা নগদ, ব্যাংকে জমা, স্বর্ণ ও রূপার বাজারমূল্য, বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ব্যবসায়িক পণ্য, এবং বিনিয়োগ ও আদায়যোগ্য পাওনা।
  2. ঋণ ও দেনা বাদ দিন। নীতিমালার শর্ত অনুযায়ী ঋণ পরিশোধের পর যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট থাকে, তবেই জাকাত ফরজ।
  3. নিসাবের মূল্য বের করুন। এক ভরি স্বর্ণের বর্তমান দর দিয়ে সাড়ে সাত গুণ করলে স্বর্ণের নিসাব, আর এক ভরি রূপার দর দিয়ে সাড়ে বায়ান্ন গুণ করলে রূপার নিসাব।
  4. নিসাবের ভিত্তি বেছে নিন। নীতিমালা বলছে, একাধিক প্রকার জাকাতযোগ্য সম্পদের সংমিশ্রণ হলে রূপার নিসাব কম মূল্যের হওয়ায় সেটিই চূড়ান্ত।
  5. নিট সম্পদ নিসাবের সমান বা তার বেশি হলে ২.৫০% হারে জাকাত বের করুন। কম হলে জাকাত ফরজ নয়।

যে জায়গায় সবচেয়ে বেশি ভুল হয়

দুই নিসাবের পার্থক্য নিয়ে। স্বর্ণের নিসাবের টাকার অঙ্ক রূপার নিসাবের চেয়ে অনেক বড়। ফলে কেউ যদি স্বর্ণের নিসাব ধরে হিসাব করেন, তাঁর উপর জাকাত ফরজ না-ও হতে পারে, অথচ রূপার নিসাব ধরলে হবে। যাকাত বোর্ডের নীতিমালা মিশ্র সম্পদের ক্ষেত্রে রূপার নিসাবকেই চূড়ান্ত বলেছে, কারণ তা গরিবের জন্য বেশি উপকারী। এই ক্যালকুলেটরের ডিফল্টও তাই রূপার নিসাব।

দ্বিতীয় জায়গা — কোন সম্পদে জাকাত বসে আর কোনটিতে বসে না। বসবাসের ঘর, ব্যবহারের আসবাব, নিজের ব্যবহারের গাড়ি বা অফিসের যন্ত্রপাতি জাকাতযোগ্য নয়। কিন্তু বিক্রির উদ্দেশ্যে কেনা জমি বা পণ্য জাকাতযোগ্য। পার্থক্যটা ব্যবহারে নয়, উদ্দেশ্যে।

তৃতীয়টি সময় নিয়ে। বছরের মাঝখানে সম্পদ নিসাবের নিচে নেমে গেলেও, বছরের শুরু ও শেষে নিসাব পূর্ণ থাকলে জাকাত ফরজ হবে; কিন্তু বছরের শুরু বা শেষে নিসাব থেকে কমে গেলে হবে না।

আপনার অঙ্ক আলাদা হতে পারে যে কারণে

  • স্বর্ণ ও রূপার দর প্রতিদিন বদলায়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন টাকায় কোনো নিসাব প্রকাশ করে না, তাই দর দুটি এই ক্যালকুলেটরে আপনাকেই বসাতে হয় — দর না বসানো পর্যন্ত নিসাব ও জাকাত কোনোটিই দেখানো হয় না।
  • স্বর্ণের ক্যারেট। বাইশ ক্যারেট ও একুশ ক্যারেটের দর আলাদা; আপনার অলঙ্কারের প্রকৃত ক্যারেট অনুযায়ী দর বসান।
  • কোন ঋণ বাদ যাবে তা নিয়ে মতভেদ আছে। তাৎক্ষণিক দেনা আর দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণের বকেয়া এক নয়।
  • কৃষি ফসল ও পশুসম্পদ-এর জাকাত আলাদা নিয়মে চলে; এই ক্যালকুলেটরে সেগুলো নেই।
  • চন্দ্রবছর। জাকাতের হিসাব ইংরেজি বছরে নয়, চন্দ্রবছরে হয়। বছরের তারিখটি নিজে ঠিক করে রাখুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

কত টাকা থাকলে জাকাত দিতে হবে? নির্দিষ্ট টাকার অঙ্ক নেই। নিসাব ধরা হয় সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপার বাজারমূল্যে, আর সেই মূল্য প্রতিদিন বদলায়। তাই আজকের দর বসিয়ে দেখতে হয়।

অলঙ্কারের স্বর্ণেও কি জাকাত? নীতিমালা বলছে যেকোনো আকৃতিতে মালিকানায় বিদ্যমান স্বর্ণ ও রৌপ্যই নিসাব হিসাবে গণ্য। ব্যবহারের অলঙ্কার এর বাইরে নয়।

ব্যাংকে রাখা টাকা ও সঞ্চয়পত্র কি ধরতে হবে? হ্যাঁ। নীতিমালায় ব্যাংক হিসাবে গচ্ছিত অর্থ, বন্ড, ডিবেঞ্চার, ট্রেজারি বিল ও বিমা পলিসিতে জমাকৃত অর্থ জাকাতযোগ্য বলা হয়েছে।

জাকাত কোথায় দেব? নিজে হকদারকে দিতে পারেন, অথবা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সরকারি যাকাত ফান্ডে জমা দিতে পারেন। আয়কর আইনে যাকাত তহবিলে দেওয়া চাঁদা বা দান বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতের তালিকাভুক্ত।